অর্থনৈতিক মন্দা সামাল দেয়া যাবে কিভাবে ?

Share:

আসছে অর্থনৈতিক মন্দা সামাল দেয়া যাবে কিভাবে ?

খুব শিঘ্রই হয়ত একটি অর্থনৈতিক মন্দা আঘাত হানতে যাচ্ছে। অনেকে হয়ত অনেককে এর জন্য দোষারোপ করছে। কিন্তু ঠিক কিভাবে এ অর্থনৈতিক মন্দা সামাল দেয়া যাবে, তা নিয়ে কেউ কিছু বলছে না। আমি অর্থনৈতিক মন্দা সামাল দেয়া নিয়ে প্রাথমিক কিছু চিন্তাভাবনা করেছি, আপনাদের সাথে যাস্ট শেয়ার করছি ।

প্রথমে আমাদের জানতে হবে, অর্থনৈতিক মন্দা ঠিক কি কারণে আসছে।

বর্তমানে আগত অর্থনৈতিক মন্দার অন্যতম বড় কারণ হইলো দীর্ঘ ২ বছর লকডাউন থাকা। এই লকডাউনের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত বড় অর্থনৈতিক রাষ্ট্র বেইল আউট প্যাকেজের মাধ্যমে দেশের জনগণকে ঠাণ্ডা রেখেছে। ঘরে বসে থাকা কর্মঠ লোককে জনপ্রতি মাসে ৪-৫ হাজার ডলার করে দিয়েছে। এই বিপুল অর্থ তারা ছাপিয়েছে, যার কারণে তাদের দেশে সৃষ্টি হয়েছে মূল্যস্ফিতি। সেই মূল্যস্ফিতি নিজের দেশে আটকে না রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে। যেহেতু বিভিন্ন দেশ আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য ডলার ব্যবহার করে, তাই সেই সুযোগ তাদের রয়েছে। এজন্য আমেরিকাই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ডলারের একটি কৃত্তিম সংকট তৈরী করছে। এতে বিভিন্ন দেশে হু হু করে বাড়ছে ডলারের দাম। এভাবে ডলারের দাম যখন শীর্ষ চূড়ায় পৌছাবে, তখন তারা ডলার ছেড়ে দিবে। এতে বাইরের রাষ্ট্রগুলোর ডলারের উচ্চ দামের ওয়েভ আর আমেরিকার অভ্যন্তরীণ মূলস্ফিতির ওয়েভ সমন্বয় হয়ে আমেরিকার অর্থনীতি রক্ষা পাবে। কিন্তু আমেরিকার অর্থনীতি বাচাতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অন্য দেশের অর্থনীতি ও জনগণ।

কিভাবে এ অর্থনীতি মন্দা সামাল দেয়া যাবে ?

১) ডলারের প্রয়োজন আছে, এমন কাজ কমিয়ে আনতে হবে। যেমন- সরকার অনেক সরকারী কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এটা একটা ভালো উদ্যোগ।

২) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য দেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে ঐ দেশের মুদ্রার সাথে সরাসরি বিনিময় করলে ভালো হয়। যেমন- বাংলাদেশের বড় আমদানি হয় চীনের সাথে। এক্ষেত্রে পুরোটা চীনা মুদ্রায় বিনিময় করতে পারলে ভালো। কোন দেশে আমদানি-রফতানি উভয় থাকলে মুদ্রায় না করে পণ্য দিয়ে লেনদেন করা যেতে পারে। যেমন- ৫ লিটার পেট্রলের বিনিময়ে ১ কেজি আলু দেয়া।

৩) বিদেশী পণ্যের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশী পণ্যের উপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে। এজন্য অনুৎপাদনশীল ইটবালি সিলেন্টের কাঠামোতে বিপুল খরচ কমিয়ে উৎপাদনশীল খাতে বেশি ইনভেস্ট করতে হবে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, এমন পণ্য/কাচামাল বাংলাদেশেই উৎপাদণে জোর দিতে হবে। এতে বাহিরের মন্দার প্রভাব বাংলাদেশে না এসে পড়বে না বরং বাংলাদেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

৪) রাষ্ট্রকে দেশী ব্যবসা/উৎপাদক বান্ধব হতে হবে। বাংলাদেশ কিন্তু দেশী ব্যবসা/উৎপাদক বান্ধব রাষ্ট্র নয়। কোন ব্যবসায়ী/উৎপাদক দাড়াতে গেলে তাকে কত উপায়ে ল্যাং মারা যায়, তার সিস্টেম রেডি থাকে। এ মানসিকতা দূর করতে হবে।

৫) বাংলাদেশে দুই শ্রেণীর ব্যবসায়ী আছে। প্রথম শ্রেণী হলো দেশে উৎপাদনে আগ্রহী। আর দ্বিতীয় শ্রেণী হলো প্রথম শ্রেণীকে দমিয়ে বিদেশ থেকে আমদানিতে আগ্রহী। এই দ্বিতীয় শ্রেনীর সাথে আবার দুর্নীতিবাজ চক্র (যারা বিদেশে অর্থপাচার করে) জড়িত। আমদানিকে পূজি করে এরা মানি লন্ডারিং করে। বাংলাদেশে দ্বিতীয় শ্রেনীটি প্রথম শ্রেনী থেকে শক্তিশালী। এদের সব সেক্টরে সিন্ডিকেট আছে। বাংলাদেশে প্রথম শ্রেনীটাকে শক্তিশালী করতে হবে।

৬) অর্থনৈতিক সেক্টরে গুজব বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশে গুজবেই অনেক কিছু দাম বেড়ে যায়। যেমন- বিদেশ থেকে ১ বছর আগে হয়ত কোন পণ্য আমদানি করা আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন তার দাম বাড়ছে, এ কথা শুনে ১ বছর আগের আমদানি করার জিনিসেরও দাম বেড়ে যাবে। মূলতঃ গুজব সৃষ্টির মূল কারণ প্রকৃত জ্ঞান না থাকা। ঠিক কি কারণে মন্দা আসছে বা কোন কোন পণ্যের দামে প্রভাব পড়বে তার সুস্পষ্ট ধারণা দায়িত্বশীল মহলকে জনগণকে দিতে হবে। সেই জ্ঞান ঠিক মত ছড়াচ্ছে কি না, কিংবা মিডিয়া সেই তথ্য প্রচার করছে কি না, তার খোজ খবর রাখতে হবে। গুজব বন্ধ করতে পারলে জনগণকে শান্ত রাখা যাবে। তখন আর উল্টা-পাল্টা জিনিসের দাম বাড়বে না।

  • Noyon Chattejee 5